অবিশ্বস্ত নারী

অবিশ্বস্ত নারী


অবিশ্বস্ত নারী:

একবার যখন কোনো মহিলা তথ্য প্রমাণ দ্বারা ব্যভিচারী সাব্যস্ত হয়, তখন তার স্বামী খুব কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। একদিকে তার মান-সম্মান নষ্ট হয়। অন্যদিকে এ জাতীয় অপমান সহ্য করা কারও জন্যই সহজ নয়। সে এমন এক ফাঁদে পড়ে যায়- যার থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ পরিস্থিতিতে মুক্তি পেতে একজন লোক যে পথগুলো বেছে নিতে পারে-

. এক হতে পারে- সে তার সম্মান রক্ষার্থে ও পরিবারের স্বার্থে ব্যাপারটি চেপে যেতে পারে। কিন্তু তাকে এই ঘটনাটি মেনে নিয়ে বাকি জীবন কাটাতে হবে। অবশ্যই একজন সম্মানিত পুরুষের জন্য এই পথ গ্রহণযোগ্য নয়, কেননা- তার জন্য একজন ব্যভিচারী স্ত্রী এবং একটি সম্ভাব্য অবৈধ সন্তানকে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আবেগ একজন পুরুষের এতোটাই প্রশংসনীয় গুণ যে, এটা ব্যতীত সে আল্লাহর নেয়ামত উপভোগ করতে পারে না। তবে কতই অসম্মানজনক ও লজ্জাজনক জীবন ঐ পুরুষের যে তার স্ত্রীর অবাধ্যতার ব্যাপারে উদাসীন।

🔹রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

অর্থ: "জেনে রাখো! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং নিজ নিজ অধীনস্থের বিষয়ে তোমাদের প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে। অতঃপর দেশের শাসক জনগণের উপর দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের উপর দায়িত্বশীল। অতএব, সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীগৃহের উপর দায়িত্বশীলা। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। দাস তার প্রভুর সম্পদের দায়িত্বশীল। সেও এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনত্বের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।

🔹প্রিয় নবি হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

অর্থ: "তিন ব্যক্তির জন্যে আল্লাহ তাআলা জান্নাত হারাম করেছেন- নেশাদার দ্রব্যে আসক্ত ব্যক্তি, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, এবং দাইয়ুস।

🔸দাইয়ুস সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

অর্থ: "ঐ ব্যক্তিকে দাইয়ুস বলা হয় যে তার পরিবারের অশ্লীলতা ও কুকর্মকে মেনে নেয়।

অর্থাৎ- যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-কন্যা সহ পরিবারের অধীনস্ত অন্য সদস্যদের বেপর্দা চলাফেরা ও অশ্লীল কাজকর্ম বা ব্যভিচারকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে অথবা কোনোরূপ বাধা না দিয়ে মৌনতা অবলম্বন করে।

যে তার নিজ পরিবারে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে শিথিলতা প্রদর্শন করে, স্ত্রী-কন্যাদেরকে পর্দার আদেশ করে না, পর্দাপালনে উৎসাহিতও করে না, ঘরে নিষিদ্ধ গান-বাদ্য দিব্যি চলে, এর কোনো প্রতিবাদ করে না; এ রকম সকল শরিয়াহবিরোধী অশ্লীলতাকে মেনে নেয়; সে ব্যক্তি দাইয়ুস।

এ ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

র্থ: "দাইয়ুস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"

. সে তার স্ত্রী এবং যে লোক তার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে তাদের উভয়কে প্রতিশোধের মাধ্যমে শান্তি খুঁজে নিতে পারে। কিন্তু এটি বিপদজনক কাজ এবং এর পরিণতি কখনও ভালো হয় না। কারণ- হত্যাকারী কখনও চিরদিনের জন্য লুকিয়ে থাকতে পারে না। একজন হত্যাকারীকে শেষমেশ খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হয়। আদালতে স্ত্রীর অসাধুতা প্রমাণ করা তার জন্য সহজ হবে না। সুতরাং তার কারাগার থেকে মুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম। এমনকি তার মৃত্যুদন্ডও হতে পারে। এতে করে সে তার নিজের জীবনও হারাবে এবং সন্তানেরাও পথভ্রষ্ট হবে। সুতরাং, শুধুমাত্র প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিজের জীবনকে বিপন্ন করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাকে বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান হতে হবে এবং ক্রোধ দমন করতে হবে, যতক্ষণ না সে এই সমস্যার একটি উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পাচ্ছে।

৩. সে তার স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা এবং এই লাঞ্চনার জীবন থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে। এটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কেননা একেতো সে নিজেকে নিজে হত্যা করলো- যা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় পাপ এবং আত্মহত্যাকারীকে আল্লাহ কেয়ামতের দিন শাস্তি দিবেন। অন্যদিকে সে নিজেকে নিজের জীবন থেকে বঞ্চিত করেছে। এটি কেমন যুক্তি যা নিজেকে অন্যের অপরাধের প্রতিশোধের জন্য আত্মহত্যা করতে উদ্বুদ্ধ করে। সে যেমন পরকালে শাস্তি ভোগ করবে তেমনি তার স্ত্রীকে আরও পাপকাজ করার সুযোগ করে দিবে।

৪. সে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে। এটিই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এটা ঠিক যে- বিবাহবিচ্ছেদ পারিবারিক জীবনকে ধ্বংস করে দেয় এবং এর কারণে তাকে ও তার সন্তানদের অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে, কিন্তু এছাড়া কোনো উপায় নেই। তাকে তালাক দেওয়া উচিৎ এবং বাচ্চাদের তার স্ত্রীর কাছে না রাখাই উত্তম। কেননা- এমন একজন অসতী নারীর কাছে তার সন্তানদের রেখে দেওয়া ঠিক হবে না। যদিও, সন্তান লালনপালন করা কোনো পুরুষের পক্ষে সহজ কাজ নয়, কিন্তু তাকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে- আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই তিনি তাকে সম্মানজনক জীবন যাপন করতে সাহায্য করবেন।


Post a Comment

0 Comments